আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী কর নির্ধারণে কোনো করদাতা অসন্তুষ্ট হলে তিনি ধাপে ধাপে আপিল করতে পারেন। এই প্রক্রিয়াটি চারটি স্বতন্ত্র স্তরে বিভক্ত — আপিল আয়কর কর্তৃপক্ষ, আপিল ট্রাইব্যুনাল, হাইকোর্ট বিভাগে রেফারেন্স এবং সর্বোচ্চ স্তর হিসেবে আপিল বিভাগে আপিল। প্রতিটি স্তরের নিজস্ব সময়সীমা, ফি এবং কর পরিশোধের শর্তাবলি রয়েছে।
নিচের ইনফোগ্রাফিকে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি এক নজরে তুলে ধরা হয়েছে:
০১আপিল আয়কর কর্তৃপক্ষ (ধারা ২৮৬–২৮৯)
প্রথম স্তরে কর নির্ধারণে অসন্তুষ্ট করদাতা আপিল আয়কর কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল দাখিল করতে পারেন। আয়, কর, জরিমানা, রিফান্ড এবং ক্রেডিট সংক্রান্ত বিষয়ে এই আপিল গ্রহণযোগ্য।
- করদাতা অসন্তুষ্ট হলে আপিল করতে পারেন
- বিষয়: আয়, কর, জরিমানা, রিফান্ড, ক্রেডিট
- কিছু ক্ষেত্রে শুধুমাত্র কমিশনার (আপিল)-এর কাছে যেতে হয়
- শর্ত: নির্ধারিত কর পরিশোধ না করলে আপিল গ্রহণযোগ্য নয়
- নির্ধারিত ফরমে আপিল দাখিল করতে হয়
- ফি: ২০০ টাকা
- সময়: ৪৫ দিন
- বিলম্ব হলে যুক্তিসংগত কারণ থাকলে গ্রহণযোগ্য
- কর নির্ধারণ বৃদ্ধি, হ্রাস বা বাতিল করতে পারে
- Show cause ছাড়া কর বৃদ্ধি করা যাবে না
- লিখিত রায় বাধ্যতামূলক
- ১৫০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত না হলে → Deemed Allowed
০২আপিল ট্রাইব্যুনাল (ধারা ২৯১–২৯২)
প্রথম স্তরের সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট না হলে করদাতা আপিল ট্রাইব্যুনালে যেতে পারেন। এই স্তরে ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হয়।
- সময়: ৬০ দিন
- ফি: ১,০০০ টাকা
- ১০% কর পূর্বে পরিশোধ বাধ্যতামূলক
- কমিশনার এই শর্ত শিথিল করতে পারেন
- উভয় পক্ষকে শুনে সিদ্ধান্ত গ্রহণ
- সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত
- সময়: ১৮০ দিন (মতভেদ হলে ২৪০ দিন)
- সময় পার হলে → Deemed Allowed
০৩হাইকোর্ট বিভাগে রেফারেন্স (ধারা ২৯৩–২৯৪)
ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র আইনগত প্রশ্নে (Question of Law) হাইকোর্ট বিভাগে রেফারেন্স করা যায়। তথ্যগত বা সাক্ষ্য সংক্রান্ত বিষয়ে রেফারেন্স সাধারণত গ্রহণযোগ্য নয়।
- আইনগত প্রশ্নে (Question of Law) রেফারেন্স
- সময়: ৯০ দিন
- ফি: ২,০০০ টাকা
- ট্রাইব্যুনালের আদেশের সত্যায়িত কপি ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কাগজপত্র সংযুক্ত করতে হবে
- বিবাদীর শুনানির অন্তত ৭ দিন পূর্বে লিখিত জবাব দিতে হবে
কর পরিশোধের শর্তাবলি
হাইকোর্ট রেফারেন্সের ক্ষেত্রে করদাতাকে নিম্নলিখিত হারে কর পরিশোধ করতে হবে:
| করদায়ের পরিমাণ | পার্থক্যের উপর প্রদেয় হার |
|---|---|
| ≤ ১০ লাখ টাকা | পার্থক্যের ১৫% |
| > ১০ লাখ টাকা | পার্থক্যের ২৫% |
পার্থক্যের সংজ্ঞা
পার্থক্য = ট্রাইব্যুনালের নির্ধারিত কর − স্বীকৃত করদায়। করদাতা আবেদন করলে কমিশনার ফি ছাড়া কর পরিশোধের অংশ কমাতে বা মওকুফ করতে পারেন।
- কমপক্ষে ২ জন বিচারকের বেঞ্চ গঠিত হয়
- আইন ব্যাখ্যা প্রদান করেন
- রায় ট্রাইব্যুনালে প্রেরণ করা হয়
- ট্রাইব্যুনাল সেই রায়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে চূড়ান্ত আদেশ দেন
- মামলার খরচ কে বহন করবে — হাইকোর্ট নিজস্ব বিবেচনায় নির্ধারণ করেন
- Stay না থাকলে কর পরিশোধ চলমান থাকবে
০৪আপিল বিভাগে আপিল (ধারা ২৯৫)
সর্বোচ্চ স্তর — হাইকোর্ট বিভাগের সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হলে আপিল বিভাগে চূড়ান্ত আপিল করা যায়। এর জন্য হাইকোর্টের certificate প্রয়োজন।
- হাইকোর্টের certificate লাগে
- Code of Civil Procedure, 1908 অনুসৃত হয়
- আপিল বিভাগের রায় ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়
- Stay না থাকলে কর পরিশোধ চালু থাকে
- এটি আপিলের সর্বোচ্চ ও চূড়ান্ত স্তর
মূল মূল পয়েন্ট
- আপিল ও রেফারেন্স ধাপে ধাপে চারটি স্তরে বিভক্ত
- প্রতিটি স্তরে নির্দিষ্ট সময়সীমা ও ফি প্রযোজ্য
- কর পরিশোধের শর্তাবলি স্তরভেদে ভিন্ন
- সময়সীমা শেষ হলে আপিল স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত (Deemed Allowed) হতে পারে
আপনার আপিল প্রক্রিয়ায় সহায়তা প্রয়োজন?
Taxology Bangladesh-এর অভিজ্ঞ দল আপনাকে আপিল ড্রাফট থেকে শুরু করে হাইকোর্ট রেফারেন্স পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সহায়তা করবে।